বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
পবিত্র হজে বাংলাদেশ: এবার নতুন উচ্চতায়!
অনলাইন ডেস্ক
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে এ বছর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব পাড়ি দিয়েছেন ৩৭ হাজার ১১৫ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। হজের এই মহাসফর শুরু হয়েছে ২৯ এপ্রিল, যখন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইটে ৩৯৮ জন ভাগ্যবান যাত্রী সৌদি আরবের মক্কার পথে যাত্রা শুরু করেন। হজ অফিস, ঢাকার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ মে) দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৯২টি ফ্লাইট সৌদিতে অবতরণ করেছে, যেখানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৫৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩২ হাজার ৫৫১ জন হজযাত্রী।
চলতি বছর মোট ৮২ হাজার ২২৮টি হজ ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, হজযাত্রার এই মহাসমারোহ আরও বেগবান হবে। হজ ফ্লাইট শেষ হবে ৩১ মে’র মধ্যে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সও এই মহামিশনে যুক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৪৫টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩১টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের হজযাত্রী সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮১ হাজার ৯০০ জন পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে ৭০টি হজ এজেন্সি এই কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, যাদের মাধ্যমে হজযাত্রীদের প্রস্তুতি ও যাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
চোখ রাখলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ জুন। আর হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১০ জুন থেকে এবং তা চলবে ১০ জুলাই পর্যন্ত।
তবে এবারের হজ মৌসুমে কিছু বেদনাদায়ক খবরও আছে। এখন পর্যন্ত হজ পালন করতে গিয়ে পাঁচজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন রাজবাড়ীর পাংশার মো. খলিলুর রহমান (৭০), কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ফরিদুজ্জামান (৫৭), পঞ্চগড় সদরের আল হামিদা বানু (৫৪), ঢাকার মোহাম্মদপুরের মো. শাহজাহান কবীর (৬০) এবং জামালপুরের বকশিগঞ্জের হাফেজ উদ্দিন, যিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সব মিলিয়ে এবারের হজযাত্রা হচ্ছে এক মহামিলনমেলা, যেখানে বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষের ত্যাগ, ধৈর্য এবং আস্থার এক বিশাল চিত্র ফুটে উঠছে। মক্কার পবিত্র মাটিতে পা রেখে তাঁরা আল্লাহর দরবারে হাত তুলেছেন ক্ষমা, শান্তি ও কল্যাণের আকুল প্রার্থনায়।